এইডসের মরণফাঁদ ও এইচআইভি ভ্যাকসিন তৈরি দুঃসাধ্য

এইডসের মরণফাঁদ ও এইচআইভি ভ্যাকসিন তৈরি দুঃসাধ্য

পৃথিবীজুড়ে বর্তমানে প্রায় ৩৭ মিলিয়ন মানুষ এইচআইভির সাথে বাস করে। এইডসের সূচনাকাল থেকে এ পর্যন্ত ৭০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছে ৩৫ মিলিয়ন মানুষ। ২০১৭ সালেই এইচআইভি সংক্রান্ত জটিলতায় বিশ্বজুড়ে ৯ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এইচআইভির প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বা চিকিৎসা এখন সহজলভ্য হলেও এর জন্য খুব বেশি কার্যকরী ভ্যাক্সিন নেই। এই ব্যাপারে আজকাল অনেক উদ্যোগই নেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। চলছে বিশাল পরিসরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। ভ্যাক্সিন তৈরির উদ্যোগগুলো মূলত এইডস প্রতিরোধমূলক বা কোষের ভেতর লুকিয়ে থাকা এইচআইভি বের করার অভীষ্টে পরিচালিত হয়ে থাকে।

এইচআইভি বা এইডসের জন্য কোনো স্বীকৃত ভ্যাক্সিন নেই। কিন্তু বিজ্ঞানীরা পূর্বের যেকোনো সময়ের চাইতে এখন এইডসের একটি কার্যকরী ভ্যাক্সিন তৈরির অনেক বেশি কাছাকাছি রয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালের পর থেকে এখন অবধি এইচআইভি সংক্রমণের হার ৪৭% কমে এসেছে, কিন্তু সেই সাথে গত বছর নতুন করে বিশ্বজুড়ে ১.৮ মিলিয়ন মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতি বছর প্রায় এক মিলিয়ন মানুষ এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে চতুর্থ বৃহত্তম ঘাতক এইডস। পৃথিবীর কোথাও এই এইচআইভি নিয়ন্ত্রণের ধারেকাছে নেই। যদিও এইচআইভির চিকিৎসা নিয়ে অনেকেই কার্যকরী উপযোগিতা পেয়েছেন বা পাচ্ছেন, কিন্তু যেকোনো মুহূর্তে যে এই ভাইরাস ভয়ানকভাবে প্রত্যাবর্তন করতে পারে, তারও যথেষ্ট নিদর্শন পাওয়া গেছে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত এইডসের ওষুধগুলোর প্রতি এইচআইভির ক্রমবর্ধমান প্রতিরোধ প্রবণতা, সাহারা অঞ্চলে জনসংখ্যা বিষ্ফোরণ এবং অপর্যাপ্ত জনস্বাস্থ্য সম্পদ, এ সবকিছুই একটি দ্বিতীয় এইডস মহামারীর দিকেই দিকনির্দেশ করছে।

ভ্যাক্সিন কী?
ভ্যাক্সিনের কাজ হলো কোনো জীবাণুকে পরাস্ত করার জন্য আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার হাতে সঠিক অস্ত্র তুলে দেওয়া। ভ্যাক্সিন মূলত শরীরের জন্য একটি প্রশিক্ষণমূলক ব্যাপার। এটি শরীরকে রোগ-জীবাণুর মুখোমুখি দাঁড় না করিয়েই তাদের সাথে লড়াই করার পদ্ধতি শেখায়। কোনো রোগের ভ্যাক্সিন তৈরি করা হয় সেই রোগেরই জীবাণু দ্বারা। তবে জীবাণুটি হয় মৃত বা দুর্বল, অর্থাৎ রোগ সৃষ্টি করতে অক্ষম। এই জীবাণুগুলো শরীরে প্রবেশ করার সাথে সাথে তৎপর হয়ে ওঠে শরীরের অতন্দ্র প্রহরী ‘শ্বেত রক্ত কণিকা’। শ্বেত রক্ত কণিকায় রয়েছে ম্যাক্রোফেইজ, বি লিম্ফোসাইট বা বি-সেল, আর টি লিম্ফোসাইট বা টি-সেল।

ম্যাক্রোফেইজের কাজ হলো জীবাণুগুলোকে ধরে গিলে ফেলা। এরপরে জীবাণুদের অংশবিশেষ অ্যান্টিজেনগুলো রক্তে রয়ে যায়। এসব অ্যান্টিজেনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা অ্যান্টিবডি তৈরি করে বি-লিম্ফোসাইট, যা অ্যান্টিজেনগুলোকে আক্রমণ করে। টি-লিম্ফোসাইট বা টি-সেলগুলো শ্বেত রক্তকণিকার স্মৃতিভান্ডার হিসেবে কাজ করে। এরা পরবর্তীতে একই জীবাণুর সম্মুখীন হলে স্মৃতি ব্যবহার করে সেটিকে ধ্বংস করার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যান্টিবডি তৈরি করতে নেমে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *